• সারাদেশ

    ভোরে বিড়ালের চিৎকার, ঘরে গিয়ে সবাই দেখলো তয়না আর নেই

      নিউজ ডেস্ক ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ , ৫:১৯:২১ প্রিন্ট সংস্করণ

    ভোরে বিড়ালের চিৎকার, ঘরে গিয়ে সবাই দেখলো তয়না আর নেই

    হঠাৎ ভোরবেলায় বিড়ালের ডাকে ঘুমে ভেঙে যায় বাড়ির সকলের। বিড়ালকে থামাতে সেই ঘরে ছুটে গিয়েই দেখতে পায় সিলিংয়ে ঝুলছে ১৮ বছরের কলেজছাত্রী তয়নার ঝুলন্ত দেহ। এসময় বাবা-মায়ের চিৎকারে আশেপাশের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠে। বৃহস্পতিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ভোরে শরীয়তপুর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড থেকে তয়না আক্তারের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

    তয়না জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী এবং শরীয়তপুর পৌরসভার তুলাসার গ্রামের নুরুজ্জামান ফকিরের মেয়ে।

    পরিবারের দাবি, তয়নার সঙ্গে একই কলেজের নয়নের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। নয়নের সঙ্গে অন্য এক মেয়ের ছবি দেখে তার সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হয়। এ ঘটনায় তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

    পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, তয়না ও নয়নের মধ্যে তিন বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সম্প্রতি তাদের মধ্যে মনোমালিন্য হলে নয়নের সঙ্গে অন্য একটি মেয়ের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। রাতে মেসেঞ্জারে কেউ একজন নয়নের সঙ্গে অন্য এক মেয়ের ঘনিষ্ঠ কয়েকটি ছবি দেয় তয়নাকে। ছবি দেখার পর রাতে বন্ধুদের এসএমএস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। ভোরে বিড়ালের ডাকে ঘুম ভাঙে পরিবারের সদস্যদের। বিড়াল খুঁজতে গিয়ে তয়নার রুমে তার মৃতদেহ দেখতে পায়।

    নিহতের বাবা নুরুজ্জামান ফকির বলেন, “গতকাল রাতেই ওই নয়ন আমার মেয়েকে অকথ্য ভাষায় অনেক গালিগালাজ করেছে। বলেছে, ‘তোর সাথে এত দিন সম্পর্ক করেছি টাইম পাস করার জন্য। তুই একটা ড্রাইভারের মেয়ে, খারাপ মেয়ে। ’ আমার সোনার টুকরা মেয়ে এমনে চইলা যাইব যদি জানতাম, সারা রাত আমি পাহারা দিতাম। আইনের মাধ্যমে আমি ওই নয়নের বিচার চাই। ”

    পালং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আখতার হোসেন জানান, একটি ছেলের সঙ্গে প্রেমঘটিত বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য হওয়ায় মেয়েটি আত্মহত্যা করেছেন। এখন আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলার প্রস্তুতি চলছে। ময়নাতদন্ত শেষ হয়েছে। পরিবারের কাছে মৃতদেহ হস্তান্তর করা হবে।