• সারাদেশ

    পদ্মা সেতুতে রেললাইন বসানোর কাজ শুরু

      প্রতিনিধি ২০ আগস্ট ২০২২ , ১০:৪১:০৪ প্রিন্ট সংস্করণ

    পদ্মা সেতুতে রেললাইন বসানোর কাজ শুরু

    পদ্মা সেতুতে শনিবার রেললাইন বসানোর কাজ শুরু করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। ১৭ জুলাই মূল পদ্মা সেতুতে রেল বসানোর অনুমতি মেলে। সেতুর জাজিরা প্রান্তে শনিবার কেক কেটে, বেলুন উড়িয়ে, আতশবাজি ফুটিয়ে লাইন বসানোর কার্যক্রম উদ্বোধন করেন রেলপথমন্ত্রী মো. নুরুল ইসলাম সুজন।

    ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে যশোর পর্যন্ত ১৭২ কিলোমিটার নতুন রেলপথ নির্মাণকাজ শেষ হবে ২০২৪ সালের ৩০ জুন। এ পথে ৬ থেকে ৮টি যাত্রীবাহী ট্রেন পরিচালনার জন্য ১০০টি অত্যাধুনিক যাত্রীবাহী কোচ ও লোকোমোটিভ কিনতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে চুক্তি সম্পূর্ণ হয়েছে।

    সেতুতে লাইন বসানোর শুভ উদ্বোধন শেষে রেলপথমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের স্বপ্নও বাস্তবায়নের পথে। পদ্মা সেতু উদ্বোধন হয়েছে। এখন আমরা দ্রুততার সঙ্গে মূল পদ্মা সেতুসহ পুরো প্রকল্পে পুরোদমে কাজ শুরু করেছি। অতিরিত্ত জনবল, যন্ত্রাংশ ব্যবহার করা হচ্ছে প্রকল্পে। আমরা ২০২৪ সালের ৩০ জুনের মধ্যেই ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে যশোর পর্যন্ত নতুন রেলপথ নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ করব। এ পথে আমরা ৬ থেকে ৮টি যাত্রীবাহী ট্রেন পরিচালনার জন্য ১০০টি অত্যাধুনিক যাত্রীবাহী কোচ ও লোকোমোটিভ সংগ্রহ করছি। এ পথে ১২০ থেকে ১৩০ মাইল গতি নিয়ে ট্রেন চলবে। পুরো পথে সড়কের সঙ্গে সরাসরি লেভেলক্রসিং থাকছে না। সবকটি লেভেলক্রসিং আন্ডারপাস করা হচ্ছে। ফলে পুরো গতি নিয়ে ট্রেন চলতে পারবে এ পথে।

    মন্ত্রী বলেন আমরা আশা করছি, আগামী বছরের জুনে কমলাপুর থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত পদ্মা সেতুর উপর দিয়ে ট্রেন চালাতে পারব। ওই সময়টুকু চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। আমাদের কোনো ঘাটতি নেই, বড় ধরনের সমস্যাও নেই। তবে পাথরস্বল্পতা যাতে দেখা না দেয়- সেজন্য বিকল্প উৎস থেকে ভারত কিংবা অন্য কোনো দেশ থেকে পাথর আনার চেষ্টা চলছে, যাতে সঠিক সময়ের মধ্যে রেললাইন প্রস্তুত করে রেলসেবা চালু করা যায়। আগে সিলেটের মধ্যপাড়া থেকেও পাথর সংগ্রহ করা হতো। সেখানে পাথর উত্তোলনে সমস্যা দেখা দিয়েছে।

    ট্রেনের ভাড়া বাড়ানো হচ্ছে কি না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে রেলমন্ত্রী বলেন, আমরা এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেইনি। ভাড়া বাড়ানোর বিষয়টি পুরোপুরি প্রধানমন্ত্রীর হাতে। আমরা মনে করি, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও এই মুহূর্তে রেলের ভাড়া বাড়ছে না। বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে রেল প্রকল্পের কাজ শেষ করতেও কোনো সমস্যা হবে না। আর ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে যশোর পর্যন্ত রেল প্রকল্পের প্রকল্প ব্যয়ও বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই।

    রেলপথমন্ত্রীর সঙ্গে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী এমপি। তিনি বলেন, ১৯৭৪ সালের বাজেটে বঙ্গবন্ধু এ সড়কের জন্য টাকা বরাদ্দ দিয়েছিলেন। তখন এখানে মাটির রাস্ত নির্মাণ করা হয়েছে। তার অসমাপ্ত কাজ তারই কন্যা শেখ হাসিনা করেছেন। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- পদ্মা সেতু ও রেললিংক সংযোগ প্রকল্পের কনস্ট্রাকশন সুপারভিশন কনসালট্যান্টের প্রধান সমন্বয়ক মেজর জেনারেল এমএম জাহিদ, রেলপথ সচিব ড. হুমায়ুন কবির, রেলওয়ে মহাপরিচালক ডিএন মজুমদার, পদ্মা রেললিংক প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. আফজাল হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    পদ্মা সেতু রেলসংযোগ প্রকল্পের অধীনে ঢাকা থেকে যশোর পর্যন্ত ১৭২ কিলোমিটার রেললাইন নির্মাণ করা হচ্ছে। ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৯ হাজার ২৪৭ কোটি টাকা।