• সারাদেশ

    ধর্ষণের পর ছাত্রীকে গলাকেটে হত্যা, রিমান্ডে শিক্ষক

      নিউজ ডেস্ক ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ , ১:৪৮:১৯ প্রিন্ট সংস্করণ

    ধর্ষণের পর ছাত্রীকে গলাকেটে হত্যা, রিমান্ডে শিক্ষক

    নোয়াখালী জেলা শহর মাইজদীতে ফাঁকা বাড়িতে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের পর গলাকেটে হত্যা করে প্রাইভেট শিক্ষক আবদুর রহিম রনি। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ওই প্রাইভেট শিক্ষককে ৩ দিনের রিমান্ড এবং অন্য তিন আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

    শুক্রবার সন্ধ্যায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা স্পেসল্যাব চৌধুরী প্রমোজ নোয়াখালী মুখ্য বিচারিক হাকিমের আদালতে প্রধান অভিযুক্ত রনির ১০ দিনের রিমান্ডের জন্য আবেদন করেন। জ্যৈষ্ঠ বিচারিক হাকিম মোহাম্মদ এমদাদ ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

    এর আগে নোয়াখালী পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকায় স্কুলছাত্রী তাসনিয়া হোসেন অদিতা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায়  তার গৃহশিক্ষক আবদুর রহিম রনি, ইসরাফিল ও সাঈদ  নামে ৩ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। প্রাথমিক আলামতে রনির শরীর থেকে ভিকটিম কর্তৃক নখের কিছু আঁচড়ের চিহ্ন পাওয়া যায়।

    শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন জেলা পুলিশ সুপার মো. শহীদুল ইসলাম।

    গ্রেফতারকৃত রনি লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকার খলিল মিয়ার ছেলে।

    পুলিশ সুপার জানান, নিহত শিক্ষার্থীর মৃতদেহ উদ্ধারের পরপর পুলিশের একাধিক দল পৃথক অভিযান চালিয়ে ইসরাফিল (১৪), তার ভাই সাঈদ (২০) ও আবদুর রহিম রনিকে (২০) গ্রেপ্তার করে। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সে প্রাথমিকভাবে জড়িত বলে ধারণা করা হচ্ছে, রনির মাথা, ঘাড়, গলাসহ শরীরের একাধিক স্থানে নখের আঁচড় রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে হত্যায় ব্যবহৃত একটি ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনায় একটি হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনায় ইসরাফিল ও সাঈদকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

    তিনি আরও জানান, রনির কোচিং থেকে কিছুদিন আগে পড়া বন্ধ করে দিয়ে অন্য স্থানে প্রাইভেট শুরু করে অদিতা। এতে ক্ষিপ্ত হয় রনি। যদিও পরে অদিতাদের বাসায় বিভিন্ন সময় আসা যাওয়া করতো সে। অদিতার মা ঘরে না থাকার সুযোগ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে ২টার মধ্যে কোনো এক সময় বাসায় গিয়ে অদিতাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ ও পরে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য ঘরে থাকা ছোরা দিয়ে হাত ও গলা কেটে অদিতাকে হত্যা করে। এ ছাড়া ঘটনা ভিন্ন খাতে নেওয়ার জন্য ঘরে আলমারিতে থাকা মালামাল ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখে। কিন্তু কোনো মূল্যবান জিনিস খোয়া যায়নি।

    এদিকে নোয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী তাসনিয়া হোসেন অদিতার (১৪) খুনিদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে। শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মুজিব চত্বরে সচেতন নোয়াখালীবাসীর ব্যানারে শত শত তরুণ, বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভে অংশ নেন।

    মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে তাসনিয়া হত্যাকাণ্ডের সঠিক তদন্ত ও দোষীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে নোয়াখালীতে ক্রমাগত আইনশৃঙ্খলার অবনতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে মেয়েদের নিরাপত্তা, কিশোর গ্যাং বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

    প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে জাহান মঞ্জিলের একটি কক্ষ থেকে অদিতার মৃতদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। সে নোয়াখালী সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। মৃতদেহটি অর্ধনগ্ন, গলা ও দুই হাতের রগ কাটা অবস্থায় বিছানায় পড়ে ছিল।